এনসিলিয়ারি ভবন (নতুন আউটডোর বিল্ডিং) নিচ তলা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

+৮৮০ ১৮১৭-৭৫১৯৮৭, +৮৮০ ০২৩৩৩৩৬৬০৩৭

আমাদের সম্পর্কে

১৯৬২ সেই থেকে কাজ করছি

আমাদের সম্পর্কে রোগীকল্যাণ সমিতি

দুঃস্থ রোগীদের প্রাতিষ্ঠানিক চিকিৎসার অতিরিক্ত সহায়তা প্রদানের মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ১৯৬২ সালের ১৩ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিষ্ঠিত হয় রোগী কল্যাণ সমিতি বা Patients Welfare Society |


তখন থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত এই সমিতির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছে ৪,৬৯, ৪৯২ জন গরীব ও অস্বচ্ছল রোগী। তম্মধ্যে ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ৫৭৮৮০ জন নিঃস্ব রোগীকে সহায়তা দেয়া হয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রমের আওতাধীন হলেও রোগী কল্যাণ সমিতি একটি নিবন্ধীকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, যেটির নিবন্ধন সংখ্যা চট্ট-৮(৩৭৮)৬৩।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকার ও জনসাধারণের মিলিত কর্মপ্রচেষ্টার এক উজ্জ্বল উদাহরণ এই রোগী কল্যাণ সমিতি। মূলত স্থানীয় দানশীল ও সমাজহিতৈষী ব্যাক্তি বর্গ এ সংগঠনের সদস্য। সমিতির নৈমিত্তিক কার্য পরিচালনার জন্যে রয়েছে একটি সুসংগঠিত কার্যকরী পরিষদ।

পদাধিকার বলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এই পরিষদের তথা সমিতির সভাপতি। সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত সমাজসেবা অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাধারণ সম্পাদক এবং অপর কর্মকর্তা যুগ্ন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন।

এ পর্যন্ত রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্যপদ গ্রহণ করেছেন ১৪৩৬ জন।

এককালীন ৫,২০০/- টাকা নিবন্ধন ফি দিয়ে সমিতির আজীবন সদস্য হওয়া যায়। সাধারণ সদস্যদের মাসিক চাঁদা ২০০/- টাকা ও নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা। সদস্য ফি বা চাঁদা ব্যতীত সমিতির অপরাপর আয়ের উৎস হলো দান, অনুদান, যাকাত এবং ব্যাংক হিসাব হতে প্রাপ্ত মুনাফা।

বর্তমানে অগ্রনী ব্যাংক, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ শাখায় রোগী কল্যাণ সমিতির ২টি হিসাব পরিচালিত হচ্ছে। এর একটির নাম রোগী কল্যাণ সমিতি (দান তহবিল) যেটির হিসাব নং ০২০০০০২৯৭৬৬৪২, অপরটির নাম রোগী কল্যাণ সমিতি (যাকাত তহবিল) যার হিসাব নং ০২০০০০৩০৪৬০১৩। তাছাড়া ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিঃ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখায়ও অনুরূপ দুটি হিসাব রয়েছে এর একটির নাম রোগী কল্যাণ সমিতি (দান তহবিল) যেটির হিসাব নং ১৪২২৩০১০০০০০০৪৪৫, অপরটির নাম রোগী কল্যাণ সমিতি (যাকাত তহবিল) যার হিসাব নং ১৪২২৩০১০০০০০০১৪৮। বলা বাহুল্য, যাকাত তহবিলের অর্থ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ি কেবল মাত্র যাকাতের হকদার রোগীদের জন্যে ব্যয়িত হয়ে থাকে।

সমিতির আয়ের প্রধান অংশ ব্যয় হয়ে থাকে দুঃস্থ রোগীদের জন্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ক্রয়ে, যেগুলো হাসপাতাল হতে সরবরাহ করা হয় না। এছাড়াও রোগীদের জন্য প্রয়োজনেপথ্য, বস্ত্র, চশমা, ক্রাচ, কৃত্রিম অঙ্গ সরবরাহসহ সি,টি, স্ক্যানিং সমেত যাবতীয় ডাক্তারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যাতায়াত খরচ দেয়া হয়ে থাকে। রোগীদের বিনোদনের জন্যে একটি পাঠাগারও পরিচালিত হয়ে থাকে। হাসপাতালে পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য পুনর্বাসনের উদ্যোগসহ নিঃসম্বল মৃত রোগীদের লাশ পরিবহনের জন্যও সমিতি অর্থ-সাহায্য দিয়ে থাকে।

মৃতদেহ বর্তমানে হাসপাতাল মসজিদ কমপ্লেক্সে পরিচালিত হচ্ছে মহিলা মুর্দা গোসল গোসল কার্যক্রম। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি অধ্যাবলি শরীয়ত সম্মতভাবে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকদের দ্বারা মৃত মহিলাদের গোসল করানো ও কাফন হয়। তাছাড়া মৃত দেহ গোসল ও কাফনের জন্য একটি অত্যাধুনিক সেন্টারও পরিচালিত হচ্ছে।

প্রাপ্ত অর্থ বছরের জন্য সমিতির প্রাক্কলিত আয় ও ব্যয় উভয়ের মোট পরিমাণ ১,০০,০০,০০০/- (এক কোটি) টাকার বেশি হয়ে থাকে।

প্রকৃতপক্ষে রোগী কল্যাণ সমিতির গৃহীত আদর্শ ও উদ্দেশ্যের অনেকগুলোই অর্থাভাবে এখনও বাস্তবায়িত হতে পারেনি। এই অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে চাই সর্বসাধারণের সার্বিক সহযোগিতা। আপনিও আপনার মূল্যবান পরামর্শ, দান ও যাকাতের অর্থ দিয়ে এবং সমিতির আজীবন বা সাধারণ সদস্য হয়ে এর সেবামুলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন।